মুক্তি
একটা ছিল পাখি। খাঁচায় বন্দী।
খাঁচায় বন্দী সেই পাখিটি স্বপ্ন দেখতো। স্বপ্ন দেখতো স্বাধীনতার। মুক্তির।
খাঁচায় বসে বসে তাকিয়ে থাকতো নীল আকাশের দিকে। সাদা মেঘের দিকে। রাতের বেলা কল্পনা করতো গহীন বনের মগডালে আরাম করে ঘুমানোর।
মাঝে মাঝে পাখা ঝাপটাতো। কিন্তু উড়তে সে পারতো না।
তার মনিব সুবিধার লোক নয়। বলে, "পাখি হইয়া পয়দা হইছে, খাঁচার মইধ্যে থাকবো। এতো উড়াউড়ির কি আছে!" সে খুব কাকুতি মিনতি করে। অনেক সুন্দর করে বুঝিয়ে বলে। মনিব শুনে না। এইটাই নাকি নিয়ম।
একদিন তাদের বাসায় একজন লোক আসে। লোকটাকে নাকি মনিব খুব মানে। তাই সুযোগ বুঝে পাখিটি ওই লোককে জানিয়ে দিলো তার মুক্তির আকুতি। লোকটি ভালো মানুষ ছিল। মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারতো। সব শুনার পর লোকটি পাখির মনিবকে বলে তাকে পাশের জঙ্গলে মুক্ত করে দিয়ে আসতে।
মনিব খুবই ক্রুদ্ধ হলো। মনে মনে বললো, "তোর মুক্ত হয়া বাইর করতেছি।" কিন্তু লোকটির সামনে কিছু প্রকাশ করলো না। করা সম্ভব নয়। এরপর লোকটির কথামত মনিব পাখিটিকে বনে ছেড়ে দিতে গেলো। কিন্তু তার অন্তরে টগবগ করে ফুটছে রাগ। ক্রোধ। সে একটি কাজ করলো। বনে ছেড়ে দেওয়ার আগে পাখিটির পাখা দুটি কেটে ফেলে দিল। পাখাহীন পাখিটিকে বনে রেখে সে চলে এলো। এসে লোকটিকে বললো,
"পাখিটিকে বনে মুক্ত করে দিয়েছি!"


.jpg)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন